উচ্চশিক্ষা গোপন করে নিচু পদে চাকরি নয়, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/07/cZ1eq83jg12Qj6lFAIPn.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক চাকরিতে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করে নিম্ন পদের সুযোগ নেওয়া আর চলবে না। একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনই যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনো প্রার্থী নিম্নতর শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট চাকরি পাওয়ার জন্য নিজের উচ্চশিক্ষার তথ্য গোপন করতে পারবেন না। এই ধরনের প্রবণতাকে অন্যায় আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাজ হাই কোর্টের এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী একটি রায়ও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত যোগ্যরা
একটি ব্যাঙ্কের দশম শ্রেণির শিক্ষাগত যোগ্যতার পদে এক স্নাতক প্রার্থীর আবেদন খারিজের মামলা শুনছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সেখানেই বিচারপতিরা জানান, উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা লুকিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। এর ফলে যে সমস্ত প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, তারা তাদের প্রাপ্য ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। আদালতের মতে, কিছু চাকরি কম যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের জন্য নির্দিষ্ট রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে দেশের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগে সমাজের সব স্তরের মানুষ সমান সুযোগ পান।
নিয়োগ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাব
বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারে পিয়ন বা ওই জাতীয় নিম্ন পদের জন্য বহু উচ্চশিক্ষিত, এমনকি পিএইচডি বা বিএড ডিগ্রিধারীদেরও আবেদন করতে দেখা যায়। তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে চাকরি নিশ্চিত করতেই অনেকে নিজেদের যোগ্যতা লুকিয়ে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে নিয়োগকারী সংস্থাগুলি আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতি অবলম্বন করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চশিক্ষিতদের নিচু পদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনই কম যোগ্যতাসম্পন্ন সাধারণ প্রার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।