কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, অষ্টম বেতন কমিশনে এক ধাক্কায় বাড়তে পারে ন্যূনতম বেতন ও পেনশন

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, অষ্টম বেতন কমিশনে এক ধাক্কায় বাড়তে পারে ন্যূনতম বেতন ও পেনশন

অষ্টম বেতন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নতুন করে বয়সভিত্তিক বেতন ও পেনশন কাঠামোর একটি বিশেষ প্রস্তাব ঘিরে বর্তমানে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মী ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে দেওয়া এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এবার থেকে প্রতি ৫ বছর অন্তর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রবীণ পেনশনভোগীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন এবং তাঁদের অবসরকালীন সুবিধায় এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে পেনশনের পরিমাণ

বর্তমানে জমা পড়া প্রস্তাব অনুযায়ী একজন পেনশনভোগীর বয়স যত বৃদ্ধি পাবে, তাঁর শেষ প্রাপ্ত বেতনের শতাংশ হিসেবে পেনশনের পরিমাণও ঠিক ততটাই বাড়বে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সে শেষ বেতনের ৭০ শতাংশ, ৭০ বছর বয়সে ৭৫ শতাংশ, ৭৫ বছর বয়সে ৮০ শতাংশ এবং ৮০ বছর বয়সে ৮৫ শতাংশ পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ৮৫ বছর বয়সে ৯০ শতাংশ এবং ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছালে শেষ বেতনের ১০০ শতাংশই পেনশন হিসেবে পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সংশোধন, ডিয়ারনেস রিলিফ এবং ফ্যামিলি পেনশনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়েও কর্মী সংগঠনগুলি চাপ দিচ্ছে।

বাস্তবায়নের সময়সীমা ও সম্ভাব্য প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই অষ্টম বেতন কমিশন আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও অংশীদারদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করবে। সাধারণত কমিশন গঠন হওয়ার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগে। সেই নিয়ম মেনে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুপারিশ জমা পড়ার পর তা পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যায়। ফলে ২০২৭ সালে চূড়ান্ত ঘোষণা হলেও সাধারণ কর্মীরা এর সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের আগে পাবেন না। এই সিদ্ধান্তের ওপর দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *