আদালতের কাঠগড়ায় অভিনেত্রী মিমি, বনগাঁকাণ্ডে জারি সমন

টালিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। বনগাঁর গোপালগঞ্জ এলাকার বিতর্কিত একটি ঘটনার জেরে এবার খোদ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র গঠিত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে আদালতে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ২ জুন বনগাঁ আদালতে অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে এই চার্জশিট গঠন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বনগাঁর গোপালগঞ্জে একটি মঞ্চানুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ ওঠে, অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী নামের এক ব্যক্তি অভিনেত্রীকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মিমি ইমেলের মাধ্যমে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে গেলে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন জেল খাটবার পর জামিনে মুক্ত হয়েই মিমির বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি লড়াই শুরু করেন তনয়।
অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিযোগকারীর দাবি, তারকা সুবাদে মিমি চক্রবর্তী এতদিন আদালতের শুনানিতে নিজে উপস্থিত না থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে কেবল সময় চেয়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী ও বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির জোরালো সওয়ালের মুখে আদালত এই চার্জশিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চার্জশিট গঠনের ফলে মামলাটি এখন চূড়ান্ত ট্রায়াল বা বিচারের পর্যায়ে পৌঁছাল। আদালতের সমন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিমি চক্রবর্তী হাজিরা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর হতে পারে। অন্যদিকে, একজন সেলিব্রেটির দায়ের করা মামলার পাল্টায় সাধারণ নাগরিকের এই আইনি সাফল্যকে কেন্দ্র করে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।