গ্রেট নিকোবরে দেড় কোটি গাছ কাটার অভিযোগ, দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন তুললেন রাহুল

পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন চান নাকি প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষা, দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রাহুলের
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দাঁড়িয়ে এক গভীর উদ্বেগের কথা সামনে আনলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিজের সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দেশের মানুষের কাছে জানতে চেয়েছেন, বর্তমান উন্নয়নের মডেলটি আসলে কার স্বার্থে কাজ করছে। ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বৃষ্টির জঙ্গল এবং প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে কি এমন কোনো ক্যাসিনো শহর গড়ে তোলা কাম্য, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বদলে কেবল নির্দিষ্ট শ্রেণির মুনাফা নিশ্চিত করে?
পরিবেশ বনাম ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত
রাহুলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রেট নিকোবর দ্বীপের বিশাল বনাঞ্চল রক্ষার বিষয়টি। তিনি নাম না করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় দেড় কোটি গাছ কাটার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতার দাবি, এই ধ্বংসযজ্ঞ পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে। উন্নয়ন যেন কোনোভাবেই আদিবাসীদের অস্তিত্ব এবং দ্বীপপুঞ্জের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন না করে, সে বিষয়েই তিনি সতর্কবার্তায় জোর দিয়েছেন।
প্রভাব ও পরিণতির আশঙ্কা
গ্রেট নিকোবরের মতো অতি-সংবেদনশীল অঞ্চলে এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। প্রবাল প্রাচীর ও বনাঞ্চল নষ্ট হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা চিরতরে বিপন্ন হতে পারে। রাহুলের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে বিরোধী শিবিরের জোরালো প্রতিবাদের পথকেও প্রশস্ত করেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসে কি না।