“১০ মিনিটের জন্য বাবা হবেন?” র‍্যাপিডো চালকের কাছে একরত্তির আকুতিতে ভিজল নেটিজেনদের চোখ!

“১০ মিনিটের জন্য বাবা হবেন?” র‍্যাপিডো চালকের কাছে একরত্তির আকুতিতে ভিজল নেটিজেনদের চোখ!

মাঝরাতে এক শিশুর চা খাওয়ার জন্য র‍্যাপিডো বুক করার ঘটনা রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইন্টারনেটে ভাইরাল হলো আরেকটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। এক অচেনা বাইক চালক এবং এক খুদে স্কুলপড়ুয়ার কথোপকথনের এই ভিডিও বর্তমানে নেটদুনিয়ার প্রতিটি মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে স্কুলের ‘ফাদার্স ডে’ অনুষ্ঠানের দিন। ইউনিফর্ম পরা এক শিশু বাইক বুক করলে রাইডার গন্তব্যে পৌঁছে তাকে একা দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কি একা যাবে?” উত্তরে নিষ্পাপ শিশুটি যা বলে, তাতে স্তম্ভিত হয়ে যান চালক। আকুতি জানিয়ে শিশুটি বলে— “না, আমাকে কোথাও যেতে হবে না। কিন্তু আপনি কি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য আমার বাবা হবেন?”

প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে চালক তাকে প্রশ্ন করেন তার আসল বাবা-মা কোথায়। তখন মন খারাপ করে শিশুটি জানায়, তার বাবা কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকেন এবং স্কুলে আসেন না। বন্ধুরা যদি জানতে পারে তার বাবা আসেনি, তবে তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করবে। রাইডার যদি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় পান, তবে শিশুটি তাকে অভয় দিয়ে বলে, “ম্যাম যাই জিজ্ঞেস করুন, আপনি শুধু মিষ্টি একটা হাসি দেবেন, বাকিটা আমি সামলে নেব।”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাকেও সে স্কুলে নিয়ে যেতে চায়নি, কারণ সেদিন স্কুলে কেবল ‘বাবা’র উপস্থিতিই ছিল জরুরি।

শিশুর এই তীব্র আবেগ ও মনের ভেতরের ভয় উপলব্ধি করে চালক আর তাকে ফেরাতে পারেননি। শিশুকে বাইকে বসিয়ে স্কুলের দিকে রওনা দেওয়ার সময় চালক স্বগতোক্তি করেন, “আজ রাইডার হওয়ার পাশাপাশি আমাকে কারও বাবাও হতে হচ্ছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই অজস্র মানুষ চালকের মানবিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তবে একই সাথে এই ঘটনাটি সমাজের এক কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে— ব্যস্ততার যুগে মা-বাবার অনুপস্থিতি এবং সহপাঠীদের ট্রোলের ভয় একটি ছোট্ট শিশুর মনে কতটা গভীর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। অচেনা রাইডার ও একরত্তির এই মানবিক বন্ধনের দৃশ্য ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *