ঘুষ কিংবা বেয়াদপি করলেই ছাঁটাই! সিভিকদের নিয়ে লালবাজারের চরম হুঁশিয়ারি
September 20, 20266:40 pm

কলকাতা: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিভিক ভলান্টিয়ারদের। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে ঘুষ নেওয়া কিংবা অপরাধে জড়িয়ে পড়া— একের পর এক ঘটনায় বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিভিকদের ভূমিকা। এবার এই সমস্ত বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে চরম কড়া পদক্ষেপ করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা স্বাক্ষরিত একটি নতুন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে লালবাজারের নয়া নির্দেশিকায়?
- ৩ মাস অন্তর মূল্যায়ন: এখন থেকে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলবে। প্রতি ৩ মাস অন্তর থানা বা ইউনিট ইন-চার্জকে তাঁদের আচার-ব্যবহার ও পারফর্ম্যান্স খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে ডেপুটি কমিশনার (হোমগার্ড)-এর কাছে।
- জিরো টলারেন্স নীতি: দায়িত্বে গাফিলতি, কড়া শৃঙ্খলাভঙ্গ, চাঁদা আদায়, ঘুষ নেওয়া, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুব্যবহার কিংবা কোনও ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালেই আর কোনও ছাড় পাওয়া যাবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলেই তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড বা স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে।
- শারীরিক অক্ষমতাতেও পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যজনিত বা শারীরিক কারণে কেউ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলেও তাঁকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার।
অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ম:
অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে কড়া নিয়ম—
- কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার না জানিয়ে টানা ৭ দিন অনুপস্থিত থাকলে, সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম নোটিস পাঠানো হবে।
- এর পর আরও ৭ দিন অপেক্ষা করা হবে।
- সন্তোষজনক জবাব না মিললে পাঠানো হবে দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত নোটিস।
- দ্বিতীয় নোটিসের পরেও কাজ যোগ না দিলে বা উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে সোজা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
বিগত দিনে আরজি কর কাণ্ডসহ পূর্ব মেদিনীপুরে ঘুষ কাণ্ড এবং ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নাম জড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতেই লালবাজারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত।