দিল্লিতেও ভাঙছে তৃণমূল? অভিষেককে দলনেতা মানতে নারাজ অনেক সাংসদ

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজ্য বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে সমান্তরাল পরিষদীয় দল গঠন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে যেভাবে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছিলেন, এবার সেই একই ‘ঋতব্রত মডেল’ আছড়ে পড়তে চলেছে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতেও। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বাংলায় তৃণমূলের ঐতিহাসিক ভাঙনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতেও জোড়াফুল শিবিরে বড়সড় ধসের পূর্বাভাস মিলছে। রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, এবার লোকসভাতেও কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারে বিক্ষুব্ধ ১৮ সাংসদ
সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের ১৮ জন সাংসদ আগামী ৮ জুন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সশরীরে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। লোকসভায় দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর কোনোভাবেই তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে মানতে রাজি নন এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা এই বিষয়ে একটি লিখিত চিঠিও জমা দিতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দিল্লিতে তৃণমূলের এই বিশাল বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ বারাসাতের বর্ষীয়ান তথা হেভিওয়েট সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় এবং তারপর রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক প্রকাশ্য বিদ্রোহই লোকসভার সাংসদদের এই চরম পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে একনায়কতন্ত্র ও প্রবীণ নেতাদের কোণঠাসা করে রাখার যে অভিযোগ উঠছিল, লোকসভার সাংসদদের এই সিদ্ধান্ত তারই বহিঃপ্রকাশ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রবীণ নেত্রীর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ স্পষ্ট করে দিল যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধির আর কোনো আস্থা অবশিষ্ট নেই।
এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। আগামী ৮ জুন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে এই ১৮ জন সাংসদের বৈঠকের পর লোকসভাতেও তৃণমূলের পরিষদীয় দল আনুষ্ঠানিক বা আইনগতভাবে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের যেটুকু গুরুত্ব বা প্রভাব অবশিষ্ট ছিল, তা এক ধাক্কায় তলানিতে এসে ঠেকবে। বিধানসভার পর লোকসভাতেও দল ভাঙার এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং তৃণমূলের অবশিষ্ট সংগঠনকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।