সুব্রত বক্সী জমানার অবসান! তৃণমূলের নতুন রাজ্য সভাপতি হলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক স্তরে এক ঐতিহাসিক রদবদল ঘটে গেল। দলের জন্মলগ্ন থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির পদে থাকা প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সী অবশেষে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেন। তাঁর জায়গায় তৃণমূলের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে ব্যাটন তুলে দেওয়া হলো রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাতে।
মমতার কাছে সুব্রত বক্সীর আর্জি ও পদত্যাগ
শুক্রবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কার্যকরী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠকেই সুব্রত বক্সী নিজে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আর্জি জানান। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই প্রবীণ এই নেতা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যার ফলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও রাজনীতি থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর এই শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর পদত্যাগের আর্জি মঞ্জুর করেন।
২৮ বছরের দীর্ঘ পথ চলা ও নতুন ভূমিকা
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের একেবারে শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন সুব্রত বক্সী। নেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে একসময় ব্যাঙ্কের স্থায়ী চাকরি ছেড়ে তিনি পূর্ণসময়ের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য সভাপতির চেয়ার সামলেছেন। এর আগেও ২০২১ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার সময় এবং ২০২৩ সালেও তিনি পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনুমতি দেননি। এবার রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেও সুব্রত বক্সী এখনই রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নিচ্ছেন না; তিনি দলের জাতীয় সহ-সভাপতি পদে বহাল থাকছেন।
চন্দ্রিমার হাতে নতুন দায়িত্ব
সুব্রত বক্সীর মতো দলের এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভের বিদায়ের পর রাজ্য সভাপতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাতে তুলে দেওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক—উভয় ক্ষেত্রেই চন্দ্রিমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ মুখের ওপরেই ভরসা রাখলেন।