দিদির জমানার অবসান হতেই মোদীর ডিজিটাল মঞ্চে রাজ্য বিধানসভা! স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি

দিদির জমানার অবসান হতেই মোদীর ডিজিটাল মঞ্চে রাজ্য বিধানসভা! স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি

দীর্ঘ ১৫ বছরের টালবাহানা ও স্বেচ্ছাচারের অভিযোগের পর অবশেষে সর্বভারতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিধানসভার যাবতীয় কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনতে ‘জাতীয় ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন’ বা ‘নেভা’ (NeVA) পোর্টালে শামিল হওয়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতাপত্র বা মউ (MoU) স্বাক্ষর করলেন রাজ্য বিধানসভার বর্তমান স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

ডিজিটাল যুগে বঙ্গ বিধানসভা

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই বিশেষ বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পিকার রথীন্দ্র বসু জানিয়েছেন, দেশের ৩৩তম আইনসভা হিসেবে এই অত্যাধুনিক ডিজিটাল মঞ্চে পা রাখল পশ্চিমবঙ্গ। শুক্রবার সকাল থেকেই পোর্টালে রাজ্য বিধানসভার জন্য পৃথক ট্যাব দৃশ্যমান হয়েছে।

‘নেভা’ পোর্টালে যুক্ত হওয়ার বিশেষ সুবিধা

এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে ব্যাপক স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই অ্যাপের প্রধান সুবিধাগুলি হল—

  • স্পিকার, মন্ত্রী এবং বিধায়করা তাঁদের যাবতীয় পরিষদীয় কাজ যেমন নোটিস দেওয়া, প্রশ্ন জমা দেওয়া বা প্রস্তাব আনা এই অ্যাপের মাধ্যমেই করতে পারবেন।
  • বিধানসভার সমস্ত কাজকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পোর্টালে ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে, ফলে কাগজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
  • সাধারণ মানুষও খুব সহজে অ্যাপের মাধ্যমে আইনসভার কাজকর্মে নজর রাখতে পারবেন এবং নিজেদের মূল্যবান মতামত জানাতে পারবেন।
  • বিধানসভার অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার (Live Stream) সাধারণ নাগরিকরা এই অ্যাপের মাধ্যমেই দেখতে পারবেন।

কেন এত বছর বাইরে ছিল রাজ্য বিধানসভা?

প্রায় পাঁচ বছর আগে সিমলায় আয়োজিত সর্বভারতীয় অধ্যক্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রাজ্যের আইনসভাকে এই পরিবেশবান্ধব ও স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি এই পোর্টালে শামিল হলেও, তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই ব্যবস্থায় যোগ দেয়নি। কেন এত দিন রাজ্য এই ব্যবস্থার বাইরে ছিল, সেই প্রসঙ্গে প্রাক্তন স্পিকার তথা তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো সুস্পষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে কেন্দ্রের সঙ্গে অসহযোগিতার কোনো সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকার নেয়নি।

অন্যদিকে, এই নতুন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বর্তমান স্পিকার রথীন্দ্র বসু। বিষয়টিতে কোনো রাজনৈতিক রং না লাগিয়ে তিনি জানিয়েছেন, গোটা দেশ যে ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ এতদিন তা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে অবশেষে সেই বিচ্ছিন্নতার অবসান হওয়াটাই রাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *