ত্রাণ পাচারের গাড়ি রুখে উত্তপ্ত উত্তর দমদম, চেয়ারম্যানের অফিস ভাঙচুরের পর মারধর করা হলো কাউন্সিলরকে

উত্তর দমদমে সরকারি ত্রাণ পাচারের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পুরসভার চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী মজুত থাকার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যে, বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যানের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরবর্তীতে এক পুর-কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
ত্রাণ বিতর্ক ও জনরোষের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দমদম পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরহাটি এলাকায় চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের ‘আল্পনা ফিসারি’ নামক একটি ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপল, কম্বল ও শাড়ি-সহ প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী মজুত ছিল। সম্প্রতি চেয়ারম্যান সেই সামগ্রীগুলো পুরসভায় স্থানান্তরের জন্য এক্সিকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দেন। শুক্রবার যখন সেই মালামাল গাড়ি করে সরানোর প্রক্রিয়া চলছিল, তখনই স্থানীয় বাসিন্দারা ত্রাণ পাচারের অভিযোগে গাড়িটি আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তল্লাশি চালাতে গিয়ে তারা কেবল বিপুল ত্রাণ সামগ্রীই পাননি, বরং অফিসের ভেতরে মদের বোতল এবং অন্যান্য আপত্তিকর জিনিসপত্রেরও সন্ধান পেয়েছেন। এর পরপরই উত্তেজিত জনতা ওই অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করে এবং ভাঙচুর চালায়।
কাউন্সিলরের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক তরজা
চেয়ারম্যানের অফিসে হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শঙ্কর দাসের বাড়িতে চড়াও হয়। জমি দখল এবং স্থানীয়দের ওপর দীর্ঘদিনের অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পরিবারের মহিলারাও নিগৃহীত হয়েছেন বলে দাবি শাসকদলের।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এগুলো সরকারি ত্রাণ নয়, বরং প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্যোগে বিতরণের জন্য আনা সামগ্রী যা দলীয় কার্যালয়ে জায়গা না থাকায় সেখানে রাখা হয়েছিল। তারা একে বিজেপির পরিকল্পিত হামলা বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক মদত নেই; বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষ এবং ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এটি।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার ফলে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সরকারি বা দলীয় ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব কীভাবে জনবিক্ষোভের রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।