খেলার মাঠ থেকে সরছেন ফিরহাদ হাকিম, ইস্তফা ভলিবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে

কলকাতার মেয়র পদের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ক্রীড়া প্রশাসনেও নিজের ভূমিকা থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা গৌতমমোহন চক্রবর্তী সরে দাঁড়ানোর পর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরহাদ। বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগপত্র ভলিবল সংস্থার দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেই খবর।
ময়দানে কেন ইস্তফার হিড়িক?
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই নতুন সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণা শোনা গিয়েছে। এরপর থেকেই ময়দানের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থায় থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা দিয়েছে। এই তালিকায় স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ক্রীড়া প্রশাসকের পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ফিরহাদের এই সিদ্ধান্ত সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
দ্বন্দ্ব ও অস্পষ্টতা
ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ নিয়ে রাজ্য ভলিবল সংস্থার অন্দরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সংস্থার বর্তমান সচিব পল্টু রায়চৌধুরী পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, রাজ্যের প্রাক্তন ভলিবলারদের একাংশ এই দাবি মানতে নারাজ। প্রাক্তন ভলিবলার গোবিন্দ ভট্টাচার্যের দাবি, ফিরহাদ হাকিমের প্রতিনিধি সরাসরি তাঁবুতে এসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গিয়েছেন, যা অনেকের চোখের সামনেই ঘটেছে।
সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ভলিবলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফিরহাদ। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকে তিনি আর ক্রীড়া সংস্থার কাজে সক্রিয় হননি। শেষ পর্যন্ত চেতলা অগ্রণীর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন, যার জেরে ময়দান প্রশাসনে বড়সড় রদবদল কার্যত নিশ্চিত।