শাহজাহানের ডেরায় এসটিএফের হানা, অস্ত্রভাণ্ডারসহ জালে নতুন ‘শাগরেদ’রা
June 6, 20268:06 pm
সন্দেশখালিতে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ মহলের নতুন ‘শাগরেদ’দের নাম এবং তাদের কার্যকলাপ প্রকাশ্যে এসেছে। এই অভিযানটি সন্দেশখালির রাজনৈতিক ও অপরাধ জগতের এক অন্ধকার অধ্যায়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
অভিযানের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অভিযানের সাফল্য ও অস্ত্র উদ্ধার:
- বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র: সরবেড়িয়া, মণিপুর এবং আকুঞ্জিপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষ করে সুরজিৎ দাসের ভেরি থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়া এই অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য।
- গ্রেপ্তার: এসটিএফ এবং পুলিশ যৌথভাবে এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে লুৎফার, রমজান মোল্লা, রেজাউল এবং সুরজিৎ দাসের নাম উঠে এসেছে।
শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ মহলের নেটওয়ার্ক:
- নতুন নাম: তদন্তে উঠে আসা নতুন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে মণিপুরের তৃণমূল নেতা রবীন দাস ও গোপাল দাস (যাঁরা ‘দাস ব্রাদার্স’ হিসেবে পরিচিত) এবং সুরজিৎ দাস।
- রমজান মোল্লার ভূমিকা: ধৃত রমজান মোল্লা চরবৈদ্য গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাহেরা বিবির স্বামী এবং শেখ শাহজাহানের আত্মীয়। সরবেড়িয়া বাজারে তাঁর ব্যবসার আড়ালে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত বলে অভিযোগ।
- শাহজাহানের ডেরা: এসটিএফ এমন একটি বাড়ি থেকেও অস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা শাহজাহান গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে অত্যন্ত কম দামে জোর করে কিনেছিলেন।
অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
- অপরাধের ধরন: এই চক্রটি বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে মজুত করত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করত।
- ভয় ও সাহসের পরিবেশ: এতদিন এলাকাটি শাহজাহানের দাপটে ত্রস্ত থাকলেও, রাজ্যে পালাবদলের পর সাধারণ মানুষ এখন সাহস করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এই সাহসের কারণেই পুলিশ গোপন সূত্র থেকে সঠিক তথ্য পেয়ে এই বড় অভিযানে সফল হয়েছে।