২২ বছর বয়সেই ৫ সন্তান, এবার ৬ নম্বর হতে চলেছে, মহিলার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ডাক্তারও

মাত্র ২২ বছর বয়সেই পঞ্চমবার মা হওয়ার পর ষষ্ঠবারের মতো অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন রাজস্থানের এক তরুণী। উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার স্পন্দন হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ডা: প্রজ্ঞা তোমরের শেয়ার করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা ও পারিবারিক চাপ
চিকিৎসকের জিজ্ঞাসাবাদের উত্তরে ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী জানিয়েছেন, পুত্রসন্তানের প্রত্যাশাতেই তাঁরা বারবার সন্তান নিচ্ছেন। দম্পতির বর্তমান সংসারে চারটি মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে। তবুও আরও অন্তত একটি পুত্রসন্তান পাওয়ার আশায় তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই ব্যক্তির মতে, বেশি সন্তান মানে ভবিষ্যতে বেশি উপার্জনকারী হাতের সংস্থান। ভিডিওতে জানা গেছে, অত্যন্ত অল্প বয়সে, সম্ভবত ১৫ বা ১৬ বছর বয়সে ওই মহিলার বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর বড় সন্তানের বয়স এখন ৮ বছর।
চিকিৎসকের উদ্বেগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বারবার গর্ভধারণের ফলে ওই মহিলার শরীরে মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডা: প্রজ্ঞা তোমর তীব্র উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রতিটি গর্ভধারণের মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান না থাকায় ওই মহিলার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডা: তোমর সরাসরি দম্পতিকে সতর্ক করে বলেন, সামাজিক প্রত্যাশা বা পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষায় নিজের জীবন ও স্বাস্থ্যকে এভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অগণিত মানুষ স্বামীর মানসিকতা ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং মহিলার স্বাস্থ্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রায় ৪ কোটি ভিউ পাওয়া এই ভিডিওটি নারীস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ এবং পুত্রসন্তানের লিঙ্গভিত্তিক আকাঙ্ক্ষার ভয়াবহতাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, পরিবার পরিকল্পনার সঠিক জ্ঞান ও স্বাস্থ্যের সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত নারীজীবনের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।