বারবার এড়িয়েও শেষ রক্ষা হলো না, বনগাঁ কাণ্ডে এবার মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চার্জশিট!

বারবার এড়িয়েও শেষ রক্ষা হলো না, বনগাঁ কাণ্ডে এবার মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চার্জশিট!

বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী বনাম তনয় শাস্ত্রীর আইনি লড়াই এবার এক নতুন মোড় নিল। আদালতের একের পর এক সমন এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে টলিউড অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলায় চার্জশিট গঠন হতে চলেছে। অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে বনগাঁ আদালত এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে জানা গেছে। আইনি জটিলতা বাড়ায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিনেত্রীকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হতে পারে।

যে ঘটনা থেকে এই বিবাদের সূত্রপাত

মামলার নেপথ্যে রয়েছে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারির একটি ঘটনা। সেদিন বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুব সংঘের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত প্রায় পৌনে বারোটা বেজে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠান থামিয়ে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন, যা নিয়ে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে মিমি চক্রবর্তী ক্লাবের সদস্য তথা অন্যতম উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ‘অভদ্র আচরণের’ লিখিত অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে এবং তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তনয় শাস্ত্রী রাজনৈতিক দল বিজেপিতে যোগ দেন এবং মিমির বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা ঠুকে দেন।

হাজিরা এড়ানোর জের ও সম্ভাব্য প্রভাব

মামলাকারী তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে মিমি চক্রবর্তী একদিনও আদালতে সশরীরে হাজিরা দেননি। বারবার আদালতের পক্ষ থেকে দিন ধার্য করা হলেও অভিনেত্রীর আইনজীবী উপস্থিত হয়ে কেবল সময়ের আবেদন করে গিয়েছেন। গত ২ জুনের শুনানিতেও মিমি অনুপস্থিত থাকায় তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী আদালতে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনের আবেদন জানান, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চার্জশিট গঠনের ফলে মিমির ওপর আইনি চাপ অনেকটাই বেড়ে গেল। এত দিন আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা এড়ানো সম্ভব হলেও, চার্জশিট গঠনের পর আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই মামলার শুনানিতে অভিনেত্রীকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হতে পারে, যা তাঁর পেশাগত ব্যস্ততায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *