শ্মশানের হিসাবরক্ষক থেকে পৌরসভার ‘মাতব্বর’, কাটোয়ায় দিগন্ত পালের দুর্নীতির সাম্রাজ্য ফাঁস
June 6, 20269:41 am

কাটোয়া শহরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দিগন্ত পাল। শ্মশানের হিসাবরক্ষকের কাজ থেকে শুরু করে কীভাবে তিনি কাটোয়া পৌরসভার অন্যতম প্রভাবশালী ‘নিয়ন্ত্রক’ হয়ে উঠেছিলেন, তা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দিগন্ত পালের উত্থান ও প্রভাবের কাহিনি:
- শুরুর দিন: একসময় তিনি শ্মশানে দেহ দাহ করার হিসাব রাখার কাজ করতেন। সেই হিসাব নিয়মমাফিক পৌরসভায় জমা দেওয়াই ছিল তাঁর মূল দায়িত্ব।
- রাজনৈতিক ছায়া: স্থানীয়দের দাবি, তৎকালীন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘ঘরের ছেলে’ হওয়ার সুবাদেই তিনি দ্রুত ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছান। বিধায়কের আশীর্বাদ থাকার কারণে পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিক—সবাই তাঁকে বাড়তি গুরুত্ব ও সমীহ করতে বাধ্য হতেন।
- ক্ষমতার অপব্যবহার: অভিযোগ রয়েছে, তিনি পর্দার আড়ালে থেকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, সম্পত্তি দখল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন।
দুর্নীতির খতিয়ান:
- অবৈধ লেনদেন: বালি ঘাট থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে প্রবল।
- আয়ের উৎস: তাঁর নিজের প্লাইউডের দোকানের আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তথাকথিত ‘সমাজসেবী’ পরিচয় আড়ালে ব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বর্তমান পরিস্থিতি:
সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দিগন্ত পাল গ্রেফতার হওয়ার পর শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা এখন তাঁর সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উৎস এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। অনেকের মতে, এই দুর্নীতিচক্রের গভীরে পৌঁছাতে ইডি (ED) বা আয়কর দফতরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ জরুরি।