তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ২৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, জাঙ্গিপাড়ায় গ্রেফতার অভিযুক্ত

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। এবার হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা রমেশ পাত্র। সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং অভিযোগকারীকে খুনের হুমকির প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ফাঁদ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী তন্ময় বারুই ‘আদ্রা-বিলাসপুর কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি লিমিটেড’-এর সঙ্গে ব্যবসায়িক সূত্রে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রমেশ পাত্র বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাকে সরকারি ও প্রশাসনিক নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই মিথ্যা আশ্বাসের ভিত্তিতে তন্ময়বাবুর কাছ থেকে অনলাইনে ১৬ লক্ষ এবং নগদে একাধিক কিস্তিতে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা নেন ওই নেতা। পরবর্তীতে কাজ না হওয়ায় ওই ব্যবসায়ী টাকা ফেরত চাইলে তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে পুলিশ এবং দলীয় স্তরে প্রভাব
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে জাঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তন্ময় বারুই। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পরেই অভিযুক্ত রমেশ পাত্রকে গ্রেফতার করে। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশ রয়েছে কি না, পুলিশ বর্তমানে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জমে থাকা দুর্নীতির ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একদিকে যেমন স্থানীয় নেতারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন, অন্যদিকে জনরোষের ভয়ে কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসছে। এই গ্রেফতারি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলা দীর্ঘকালীন দুর্নীতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, তেমনই দলের ভাবমূর্তিও চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে।