আবাসের টাকায় থাবা বসিয়ে শ্রীঘরে তৃণমূলের চার প্রভাবশালী!

বাংলা আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বড়ঞা। এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এক বর্তমান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী এবং দুই প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে বড়ঞা থানার পুলিশ শ্রীহট্ট গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে। শনিবার ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে কান্দি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীহট্ট গ্রামের বর্তমান তৃণমূল সদস্যা সকেরা বিবির স্বামী সুফল রহমান। বাকি তিনজন হলেন পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য প্রশান্ত কুমার পাল, উৎপল বাগদি এবং মানিক বায়েন। শ্রীহট্ট গ্রামেরই বাসিন্দা অঙ্গরী দত্ত নামে এক উপভোক্তার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে এই চক্রটি স্থানীয় একাধিক গরিব মানুষের কাছ থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
দুর্নীতির শিকড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গ্রেফতারির ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশি ঘেরাটোপে আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য প্রশান্ত কুমার পাল কাটমানি নেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকারও করেননি। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেন যে, বাংলা আবাস নির্মাণের জন্যই ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তের এমন মন্তব্যে স্পষ্ট যে, সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে।
আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে এমন দুর্নীতির ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের ওপর ভরসা কমছে এবং প্রকৃত দুঃস্থরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কাটমানি চক্রের শিকড় ঠিক কত দূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে বড়ঞা থানার পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।