নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস

২০২৬ সালের মে মাসের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর গভীর অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে পড়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২১৪টি আসন থেকে এক ধাক্কায় মাত্র ৮০-তে নেমে এসেছে তৃণমূলের আসন সংখ্যা। অন্যদিকে ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে দিয়েছে বিজেপি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনও এমন চরম সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় দেখা যায়নি।
অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও মহারাষ্ট্রের ধাঁচে দল ভাঙনের আশঙ্কা
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর পরই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক ফাটল ও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং নিজেদের “আসল তৃণমূল” বলে দাবি করছেন। বিধানসভার সংখ্যার অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে দলের ভেতরেই এক ধরণের সাংগঠনিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে জরুরি সমঝোতা বৈঠক শুরু করেছেন। একই সঙ্গে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের বিদ্রোহ থেকে দূরে রাখতে এবং দলের জাতীয় প্রতিনিধি দলকে ভাঙন থেকে বাঁচাতে সংসদে বিশ্বস্ত নেতাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব এবং ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ
তৃণমূলের এই সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ। রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতা দখল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার কারণে তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের আধিপত্য বিলুপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর লাগাতার অভিযানে দলের দ্বিতীয় সারির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি বেড়াজালে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এই অর্থনৈতিক স্থবিরতা, তীব্র প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে ১২৯টি আসন সরাসরি তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির দখলে চলে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় এখনও ৪১ শতাংশ ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ থাকলেও, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলকে গুরুত্বহীন রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে হলে সংগঠনকে আমূল পরিবর্তন করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।