ফিরহাদকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন মমতা! সজলের দাবি ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এরই মধ্যে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ফিরহাদ হাকিম স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি বা বিজেপির কোনও চাপের কারণেও সরে দাঁড়াননি, বরং স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। সজলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের পরাজয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন পদহীন অবস্থার কারণেই ফিরহাদের প্রতি এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে কোনও পদ না থাকাতেই ফিরহাদকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
অভিষেকের প্রত্যাবর্তন ও দায়িত্ব বণ্টন
সজল ঘোষ যখন এই মন্তব্য করেছেন, তখন তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবার তাঁর দায়িত্বভার কিছুটা লাঘব করে ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই দুই সাংসদকে দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
গ্রেফতারির আশঙ্কা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দলের এই শীর্ষ স্তরের রদবদল এবং দায়িত্ব বণ্টনের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক কারণ ও বাধ্যবাধকতা খুঁজছেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ক্রমশ জড়িয়ে পড়েছেন, তাতে তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সেই সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এবং গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই দলের ভবিষ্যৎ কৌশল হিসেবে আগেভাগেই দুই প্রবীণ সাংসদের হাতে বাড়তি দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। অন্যদিকে, সজল ঘোষের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তর্দ্বন্দ্ব, আইনি জটিলতা এবং দলের ভেতরের নতুন রদবদল রাজ্যের শাসক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।