‘বেড পার্টনার’ হওয়ার প্রস্তাব, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!

যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি ও বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা, যিনি পেশায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর কর্মী, তাঁর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ গৃহীত হওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, যদিও ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মাস দুয়েক আগে গত এপ্রিল মাসে।
কাজের টোপ দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না পাওয়ায় তিনি গত ২৯ মার্চ স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে তাঁর এক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এরপরেই ৩ এপ্রিল রাতে একটি সন্দেহজনক ফোন আসে এবং পরদিন, অর্থাৎ ৪ এপ্রিল, এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসে রীতিমতো হুমকি দেন। নিগৃহীতার দাবি, তাঁকে স্পষ্ট বলা হয়েছিল স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বাপি মালাকারের কথা না শুনলে তাঁকে খুন করে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হবে। স্টুডিওয় কাজ পেতে গেলে তাঁকে স্বরূপ বিশ্বাসের ‘বেড পার্টনার’ হতে হবে অথবা ‘মেয়ে সাপ্লাই’ করতে হবে বলে চাপ দেওয়া হয়। আতঙ্কে প্রথমে গল্ফগ্রিন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে দু-তিন দিন আত্মগোপন করে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি ফের পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
কঠোর ধারায় মামলা ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশ স্বরূপের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ৭৫(১)(ii), ৩০৮(৪), ৩০৮(৫), ১০৯, ৩৫১(৩) এবং ৬১ ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারায় জামিন অযোগ্য মামলা রুজু করেছে। এই ঘটনা টলিউডের অন্দরে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শোষণের অন্ধকার দিকটি জনসমক্ষে এনেছে। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের মতো অনেকেই সরব হয়েছেন, যাঁদের দাবি, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে শিল্পী বা প্রযোজক, অনেকেই এই ধরণের চক্রের শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের ইচ্ছেমতো ব্যবহৃত না হলে কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই হেভিওয়েট গ্রেফতারির ফলে স্টুডিও পাড়ায় কাজের বিনিময়ে শোষণের যে সিন্ডিকেট কাজ করছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খাবে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে স্বচ্ছতা তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।