ভারত ও চিনের সম্পর্কে নাক গলাবে না রাশিয়া, ত্রিকোণ সমীকরণে পুতিনের বড় বার্তা

ভারত ও চিনের সম্পর্কে নাক গলাবে না রাশিয়া, ত্রিকোণ সমীকরণে পুতিনের বড় বার্তা

ভারত ও চিনের মধ্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাশিয়া। সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে রাশিয়া কোনওভাবেই নাক গলাবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে পুতিন জানান, দুই রাষ্ট্রপ্রধানই আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ত্রিকোণ বন্ধুত্বের ভারসাম্য

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরেছিল। তবে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশই একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে চিনের তিয়ানজিনে মোদি-জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশই একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পুতিনের বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারত ও চিন উভয়েরই কয়েক দশকের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠেছে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা যেমন চিনকে বিচলিত করে না, তেমনই চিনের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক নিয়ে ভারতও উদাসীন।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে অবস্থান ও প্রভাব

এই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান ও চিনের অক্ষ নিয়েও মুখ খুলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। চিনের আড়ালে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কর্মকাণ্ড এবং ইসলামাবাদের প্রায় ৮০ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম চিনের তৈরি হওয়া নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ স্বাভাবিক বলেই মনে করেন পুতিন। তবে পাকিস্তান সম্পূর্ণ চিনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, এমন তত্ত্ব খারিজ করে তিনি জানান, পাকিস্তান একটি বিশাল দেশ এবং বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে তাদের বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই বিবৃতির ফলে এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে। একদিকে রাশিয়া যেমন ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখল, অন্যদিকে চিনের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হতে দিল না। এই নিরপেক্ষ অবস্থান সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ভারত ও চিনকে বাইরের কোনও চাপ ছাড়াই সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে আরও উৎসাহিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *