লোকসভায় বড়সড় ভাঙনের মুখে ঘাসফুল শিবির, জল্পনার কেন্দ্রে কাকলি!

লোকসভায় বড়সড় ভাঙনের মুখে ঘাসফুল শিবির, জল্পনার কেন্দ্রে কাকলি!

রাজ্য বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদ ভবনেও ফাটলের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় দলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে প্রবল ডামাডোল, যেখানে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নেতৃত্বে উঠে এসেছে বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠিত হওয়ার পর, এবার লোকসভাতেও একই সমীকরণ তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব

দলের অন্দরে এই বিদ্রোহের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে লোকসভার দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনে নিতে একাংশের অনীহা। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে পরিচিত নেতারা, বিশেষত বেশ কয়েকজন তারকা সাংসদ, ধীরে ধীরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিষেককে দলনেতা হিসেবে অস্বীকার করে চিঠি দিতে পারেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এড়াতে অন্তত ১৮ জন সাংসদকে একজোট করে দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান এবং জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার মতো সাংসদরা গোপনে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে খবর।

জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

সোমবার ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকবেন। আর ওই দিনেই লোকসভায় দলের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের কোনওরকম সরাসরি যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে এই ভাঙন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ওজন ও অবস্থানকে অনেকটাই দুর্বল করে দেবে। বিশেষ করে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর বিরোধী জোটে তৃণমূলের যে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছিল, দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ তাকে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *