দিল্লির রাজপথে নতুনের ডাক, শিক্ষার সংস্কার চেয়ে সোনম ওয়াংচুকের বার্তা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার শুরু হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি। এই অভিনব বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সোনম ওয়াংচুক এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করা তাঁর পছন্দের কাজ না হলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবি
প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে সোনম ওয়াংচুক দেশের শিক্ষা কাঠামোর গলদ নিয়ে সরব হন। তাঁর মতে, দেশের রাজনীতিবিদ ও আমলাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কার আসবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার চেয়ে তরুণ প্রজন্মের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি। এদিন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বহু শিক্ষার্থী সোনমকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তিনি রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর
ককরোচ জনতা পার্টির মূল লক্ষ্য মূলত দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। এই লক্ষ্যে তারা পাঁচটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে:
প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা।
দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত ও কার্যকর ডিজিটালাইজেশন।
তৃতীয়ত, অস্থির পরিস্থিতির কারণে বন্ধ থাকা মণিপুরের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা।
চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
পঞ্চমত, দেশের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
আন্দোলনকারীদের এই কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের অপ্রত্যাশিত সহযোগিতা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ কোনো ধরনের অশান্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে এই বিক্ষোভ পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতার দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই সরব অবস্থান আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।