দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার শুভেন্দুর উদ্যোগে

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে থমকে থাকা নন্দীগ্রাম দেশপ্রাণ রেল প্রকল্প অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে। ইউপিএ সরকারের জোট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বেরিয়ে আসার পর মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয় উদ্যোগে ফের প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ইতিবাচক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
জমি জট কাটিয়ে নতুন দিশা
শনিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। রেলমন্ত্রীও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে কাজ দ্রুত শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং কাজের অগ্রগতির উপর নজর রাখতে চারজন জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিন অন্তর কাজের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেল পরিষেবার লক্ষ্য
শুধুমাত্র দেশপ্রাণ থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৮ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণই নয়, বরং এই প্রকল্পকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে এর আগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও, এবার রেলের মাধ্যমে এই পুণ্যভূমিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য স্থির হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জট কাটায় এই প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি গোটা দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রকল্প এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।