এশিয়ার বৃহত্তম টিবি হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ কি ফিরবে স্বমহিমায়!

একসময়ের এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং গর্বের চিকিৎসাকেন্দ্র নদিয়ার ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল এখন কার্যত ভুতুড়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রতিটি ইমারত আজ ধ্বংসের পথে। ৩০০ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশালাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখন আগাছা আর অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুনরুজ্জীবনের আশায় নতুন জল্পনা
সম্প্রতি কল্যাণীর একটি প্রশাসনিক বৈঠকে এই হাসপাতালের করুণ দশা নিয়ে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়ক সাধন ঘোষ। তিনি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত এই সরকারি সম্পত্তিকে নতুন করে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, এখানে একটি আধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হলে নদিয়া জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লক্ষাধিক মানুষ সুলভে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অকেজো পড়ে থাকা এই বিশাল সরকারি সম্পদকে জনস্বার্থে কাজে লাগানোর দাবি এখন জোরালো হয়েছে সব মহলে।
সেবা থেকে অবক্ষয়ের ইতিহাস
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, একসময় রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে ভিনরাজ্য থেকেও যক্ষ্মা রোগীরা চিকিৎসার জন্য ছুটে আসতেন এই ধুবুলিয়া হাসপাতালে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ও কর্মীদের বদলি এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে হাসপাতালের কিছু অংশে বিএসএফ জওয়ান ও কয়েকজন প্রাক্তন কর্মী বসবাস করলেও মূল কাঠামোর বেশিরভাগ অংশই পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত নিরাপত্তার অভাবে সরকারি এই বিপুল পরিমাণ জায়গা বেহাত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসনিক মহলের হস্তক্ষেপে এই হাসপাতাল তার হৃত গৌরব ফিরে পায় কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।