আইনি জালে আটকা পড়ছেন জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যার!

পাটনার প্রখ্যাত শিক্ষক ও ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা খান স্যারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। গত ২ জুন পাটনার মুসাল্লাপুর হাট এলাকায় তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই খান স্যারের দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যক্তিগত জীবন ও প্রভাব
বিতর্ক শুধু কোচিং সেন্টারের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তাঁর পৈতৃক গ্রাম উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়াতেও খান স্যারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দাবি, নিজ গ্রামেও তিনি নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর এক চাচা অভিযোগ করেছেন যে, খান স্যার শিক্ষার্থীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন এবং প্রকৃত শিক্ষকের পরিবর্তে তিনি এক ‘মাফিয়া’সুলভ আচরণ করেন। এছাড়া গ্রামীন অবকাঠামো ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও স্থানীয়দের সাথে তাঁর তিক্ত সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নিজের প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনিক কাজেও বাধা সৃষ্টি করেন।
প্রতিযোগিতা না কি আধিপত্যের লড়াই
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বিষয়টিকে কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর পারস্পরিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই হিসেবে দেখছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘জ্ঞান বিন্দু’র পরিচালককেও এই মামলায় গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনার গভীরতা স্পষ্ট হয়েছে। তবে খান স্যারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও ক্যারিয়ার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, না কি অভিযোগের ভারে তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামে।