সন্দেশখালিতে এসটিএফের বড় অভিযান, পুকুরে মিলল বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র

সন্দেশখালির মণিপুর এলাকায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফের বড়সড় তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা রবিন দাস ও তাঁর ভাই গোপাল দাসের বাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে এই অস্ত্রশস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারে চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
তল্লাশি অভিযানে এসটিএফের পাশাপাশি সন্দেশখালি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, অস্ত্র উদ্ধারের খবর চাউর হতেই প্রচুর মানুষ জড়ো হন, যা ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং বিরোধীদের ওপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের ধারণা, এলাকায় অশান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পুকুরের জলে এই অস্ত্রগুলো মজুত রাখা হয়েছিল।
রাজনৈতিক তরজায় সরগরম রাজ্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া আক্রমণ শানানো হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল জমানায় যে পুকুর থেকে মাছের পরিবর্তে অস্ত্রও উদ্ধার হতে পারে, তা আজ প্রমাণিত। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কর্মীদের আক্রমণ করার লক্ষ্যেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এই বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধারের পর ঘটনার শিকড় কত গভীরে, তা নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছেন গোয়েন্দারা।