মন্দির চত্বরের উচ্ছিষ্ট ফুল থেকেই এবার তৈরি হবে ধূপবাতি, রাজ্যের অভিনব উদ্যোগে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

পরিবেশ রক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরের উচ্ছিষ্ট ফুল থেকে ধূপবাতি তৈরির এক অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের এই উদ্যোগে তারাপীঠ-সহ বীরভূমের বিভিন্ন সতীপীঠে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।
দূষণ মুক্তি ও নতুন কর্মসংস্থান
প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরে বিপুল পরিমাণ ফুল ও মালা নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে এই অবশিষ্ট অংশ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, যা দীর্ঘ দিন ধরে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে তারাপীঠ মন্দিরের বর্জ্য পার্শ্ববর্তী দ্বারকা নদীর জলকে দূষিত করছিল। যদিও বর্তমানে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই ফুল থেকে জৈব সার তৈরির কাজ করছে, তবে সরকারি উদ্যোগে ধূপবাতি তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, মন্দির থেকে সংগ্রহ করা ফুল দিয়ে ধূপবাতি তৈরির জন্য বিশেষ ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে। এতে অন্তত ১৫ জন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দপ্তরের নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রকল্পের ব্যয় বহন করা হবে।
বীরভূমের সতীপীঠগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব
তারাপীঠ ছাড়াও নলহাটির নলাটেশ্বরী, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী, লাভপুরের মা ফুল্লরা, বোলপুরের কঙ্কালীতলা এবং বক্রেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলিতে এই প্রকল্পের প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্দির কমিটিগুলো মনে করছে, সরকারি এই উদ্যোগ কার্যকর হলে মন্দির চত্বর পরিষ্কার থাকবে এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক নতুন নজির স্থাপিত হবে। স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশপ্রেমীদের মতে, ধর্মীয় আচারের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা ও গ্রামীণ অর্থনীতির মেলবন্ধনে এই প্রকল্প এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে চলেছে।