স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে স্বস্তিতে টলিপাড়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণা’ নিয়ে বিস্ফোরক ঋত্বিক

তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। আলিপুর আদালত তাঁকে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। টলিপাড়ার অন্দরে দীর্ঘদিনের ‘ত্রাস’ স্বরূপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে।
টলিউডে ভয়ের পরিবেশ ও থ্রেট কালচার
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পর অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী এই ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বহু বছর ধরেই টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচেটিয়া আধিপত্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চাপা অসন্তোষ ছিল। ঋত্বিক বলেন, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে থ্রেট কালচার এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ছিল, তার প্রেক্ষিতে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পুলিশি তদন্তের মধ্য দিয়ে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলেই তিনি মনে করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ঋত্বিকের কটাক্ষ
ইন্ডাস্ট্রিতে স্বরূপ বিশ্বাসের কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ছায়াই যে দায়ী, তা পরোক্ষভাবে স্পষ্ট করেছেন ঋত্বিক। অভিনেতার মতে, স্বরূপ বিশ্বাসরা যে কোনো কাজই করুন না কেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ছাড়া সম্ভব ছিল না। ঋত্বিকের কথায়, ইন্ডাস্ট্রির এই দৈন্যদশা ও নিয়মবহির্ভূত কাজের প্রতিটি পদক্ষেপে তৃণমূল সুপ্রিমোর পরোক্ষ মদত ছিল। স্বরূপ বিশ্বাসদের এহেন বাড়বাড়ন্তের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়াকেই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ইন্ডাস্ট্রিকে স্বাধীনভাবে চালনার প্রয়োজনীয়তার কথাই যেন উঠে এল ঋত্বিকের মন্তব্যে।