ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৩ লাখ রেশন কার্ড বাতিল করছে মুখ্যমন্ত্রী!

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৩ লাখ রেশন কার্ড বাতিল করছে মুখ্যমন্ত্রী!

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কোষাগারের আর্থিক চাপ কমাতে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি রুখতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের আওতায় থাকা অযোগ্য ও ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা ২০২৬’ (এসআইআর)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া প্রায় ৬৩ লাখ মানুষের রেশন কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বা ট্রাইব্যুনালে যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তাদের রেশন কার্ড সচল থাকবে।

আর্থিক ক্ষতি রোধ ও অন্নপূর্ণা প্রকল্পের তহবিল জোগাড়

এই অভিযানের মূল কারণ হলো সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করা এবং নতুন ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ চালু করা। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় দুই কোটি নারীকে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যার জন্য বছরে প্রায় ৭২,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। পূর্ববর্তী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লাখ অযোগ্য নারী সুবিধা নিচ্ছিলেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব বৃদ্ধি করা তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব না হওয়ায়, ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের বার্ষিক ১৫,০০০ কোটি টাকার অপচয় বন্ধ করতেই এই কঠোর স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে যাচাইকরণ ও ধান কেলেঙ্কারির তদন্ত

এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আগামী ১৫ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এসডিও এবং বিডিওদের সহায়তায় খাদ্য পরিদর্শকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করবেন। এই অভিযানের ফলে শুধুমাত্র প্রকৃত এবং অভাবী মানুষরাই সরকারি রেশন সুবিধার আওতায় থাকবেন, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফেরাতে বড় প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ধান ক্রয়ের নথিপত্রে থাকা বড়সড় কেলেঙ্কারির আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে কাগজে-কলমে ধান কেনা হলেও চালের একটি বড় অংশ সরকারি গুদামে ফেরত আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *