তৃণমূলের বিদ্রোহের আঁচ এবার দিল্লিতে, বড় ভাঙনের মুখে কি জোড়াফুল শিবির!

তৃণমূলের বিদ্রোহের আঁচ এবার দিল্লিতে, বড় ভাঙনের মুখে কি জোড়াফুল শিবির!

বাংলার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বড়সড় বিদ্রোহের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতার মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের একাংশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে নতুন করে ভাঙন-আতঙ্ক তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাজানো সংসদীয় দলে এই অস্থিরতা কেবল নেতৃত্বকে চাপে ফেলছে না, বরং জাতীয় স্তরে দলের অস্তিত্ব রক্ষায় বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে।

সাংসদদের অসন্তোষ ও দলত্যাগের জল্পনা

বিধানসভার ঘটনার পর থেকেই সংসদের দুই কক্ষের সাংসদদের গতিবিধি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর অসন্তোষের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। যদিও তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তাঁর নীরবতা জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাম্প্রতিক বয়ান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সরাসরি লোকসভায় বিধানসভার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে একে বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, তবুও দলের অন্দরে ফাটল যে গভীর হয়েছে তা অস্বীকার করার জায়গা নেই।

আইনি মারপ্যাঁচ ও নেতৃত্বের তৎপরতা

বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সাংসদ রয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং পৃথক গোষ্ঠী গঠন করতে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংখ্যার সমীকরণ মেলাতে যদি বিদ্রোহীরা সফল হয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব অনেকটাই ম্লান হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল সুপ্রিমো নিজে ময়দানে নেমেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অসন্তুষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সংসদীয় দলে সমন্বয় বজায় রাখতে দুইজন বিশ্বস্ত সাংসদকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন।

এই সম্ভাব্য ভাঙনের কারণ হিসেবে মূলত দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকেই দায়ী করা হচ্ছে। যদি সত্যিই এই বিদ্রোহ দানা বাঁধে, তবে আসন্ন দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর যেমন দুর্বল হতে পারে, তেমনই ২০২৬-এর রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের ওলটপালট ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে তৃণমূলের অন্দরের এই লড়াই এখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *