দিল্লিতে অভিনব বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পথে ককরোচ জনতা পার্টি

পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির যন্তর মন্তর। শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলনের ডাকে রাজধানীর রাস্তায় নেমেছেন শত শত প্রতিবাদী মানুষ। আমেরিকার বোস্টন থেকে ফিরে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বই ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়েই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হলো রাজধানী
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই কিছু অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে আন্দোলন বিরোধীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
আন্দোলনের নেপথ্যে ও প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই সংগঠনের জন্ম। ভুয়ো ডিগ্রিধারী বেকার যুবকদের তিনি আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, সেই ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধনকেই প্রতিবাদের হাতিয়ার করেছেন আন্দোলনকারীরা। আইসা ও এসএফআই-এর মতো ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে এই জনআন্দোলন সরকার ও প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকার করায় শনিবারের এই কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।