শওকতের গ্রেফতারে স্বস্তিতে আরাবুল, ববি হাকিম ও তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ!

শওকতের গ্রেফতারে স্বস্তিতে আরাবুল, ববি হাকিম ও তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ!

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) হাতে ভাঙড়ের দাপুটে নেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা গ্রেফতার হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। এই গ্রেফতারিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বর্তমান আইএসএফ (ISF) নেতা আরাবুল ইসলাম তীব্র উল্লাস ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কলকাতার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ (ববি) হাকিমের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ এনে আরাবুলের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ববি হাকিমের বিরুদ্ধে ২ কোটির আর্থিক লেনদেনের বোমা

একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাবুল ইসলাম দাবি করেছেন, শওকত মোল্লাকে দলীয় সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং আরাবুলকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করতে তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্ব বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ববি হাকিম স্বয়ং শওকতের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নিয়েছিলেন এবং ববির অনুগামীরাও বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক আখ্যা দিয়ে আরাবুল জানান, আজ তৃণমূলে থাকলে তাঁকেও হয়তো জেল খাটতে হতো। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অহংকারের কারণেই আজ দলটির এই দশা এবং তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। শুধু শওকতই নয়, ক্যানিং ও ভাঙড় অঞ্চলের বাহারুল ইসলাম, মহসিন গাজি ও খয়রুল ইসলামের মতো অন্যান্য স্থানীয় নেতাদেরও অপরাধী আখ্যা দিয়ে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার কারণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই রাজনৈতিক বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিশেষ করে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় শওকত মোল্লা ও আরাবুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘অম্লমধুর’ ক্ষমতা দখলের লড়াই। অতীতে স্বয়ং শীর্ষ নেতৃত্ব উদ্যোগী হয়ে তাঁদের মেলানোর চেষ্টা করলেও মাঠপর্যায়ে সেই বরফ কখনোই গলেনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় সংস্থার এই বড় পদক্ষেপ এবং পলাতক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শওকতের গ্রেফতারি তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শওকতের এই পতন এবং আরাবুলের প্রকাশ্য আক্রমণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। একদিকে যেমন ক্যানিং ও ভাঙড় এলাকায় তৃণমূলের রাশ আলগা হতে পারে, অন্যদিকে আরাবুলের এই চাঞ্চল্যকর দাবি দুর্নীতি মামলায় ববি হাকিমসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ও সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *