তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি অভিষেকের, ভাঙনের মুখে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ?

নির্ধারিত সূচি বদলে রবিবার নয়, বরং শনিবারই তড়িঘড়ি দিল্লি রওনা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাজধানীতে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দলের অন্দরে যখন ভাঙনের তীব্র গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই অভিষেকের এই আগাম সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই নিজের দিল্লি সফরের পরিকল্পনা এক দিন এগিয়ে এনেছেন তিনি।
ভাঙন ঠেকানোর শেষ চেষ্টা?
বিধানসভায় পরিষদীয় দলের ভাঙনের পর এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন লুটিয়েন্স’-এর মাধ্যমে তৃণমূলের সাংসদদের দলে টানার প্রক্রিয়া চলছে। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান শক্তি ২৮ জন, আর বিদ্রোহীদের দাবি, দলনেতার পদ থেকে অভিষেককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি সাংসদ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের এই তৎপরতা এবং দিল্লিতে সাংসদদের কাছে আসা অনবরত ফোনের প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতির রাশ টানতে অভিষেককে তড়িঘড়ি আসরে নামিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘অপারেশন ক্রাউন প্রিন্স’ এবং বর্তমানে দিল্লিতে সক্রিয় এই কর্মকাণ্ডের মুখে দাঁড়িয়ে ভাঙন রুখতে অভিষেক কতটা সফল হন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।