তীব্র গরমে বাড়ছে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি, প্রাণ বাঁচাতে মেনে চলুন জরুরি নিয়ম

জুন মাসের তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু আমাদের শরীরকেই কাবু করছে না, বরং বাড়ির অন্দরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সুরক্ষাকেও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে রান্নাঘরের এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে এই মরশুমে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ।
সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ ও ঝুঁকি
বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এলপিজি সিলিন্ডারের ভেতরে অত্যন্ত উচ্চ চাপে গ্যাস ভরা থাকে। গরমকালে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলিন্ডারের ভেতরের গ্যাসের চাপও বাড়তে থাকে। সিলিন্ডার একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চাপ সহ্য করার মতো করে তৈরি হলেও, বাইরের প্রচণ্ড তাপ এবং রান্নাঘরের ভ্যাপসা পরিবেশের কারণে অভ্যন্তরীণ চাপ অনেক সময় বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস লিক বা সিলিন্ডারের যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।
দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় সতর্কতা
রান্নাঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস এজেন্সির পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের সামান্য গন্ধ পাওয়া গেলে বা শিস দেওয়ার মতো শব্দ শুনলে দেরি না করে দ্রুত রেগুলেটর বন্ধ করে দিন এবং ঘরের সমস্ত দরজা-জানালা খুলে দিন। এই অবস্থায় কখনোই বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ করবেন না বা দেশলাই জ্বালাবেন না।
সিলিন্ডারের পাইপ ও রেগুলেটর নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে ত্রুটিপূর্ণ পাইপের কারণে, তাই সবসময় আইএসআই মার্কযুক্ত সুরক্ষাপাইপ ব্যবহার করুন। সিলিন্ডার কখনোই সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায় রাখবেন না। রান্নাঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে সিলিন্ডার সোজা করে রাখা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি, নতুন সিলিন্ডার নেওয়ার সময় এর গায়ে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ বা টেস্টিং ডেট অবশ্যই দেখে নিন। রান্না শেষ হওয়ার পর অভ্যাসগতভাবেই রেগুলেটর বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।