মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেই ‘সমুদ্র মন্থনে’ বড় সাফল্য, আন্দামানে মিলল বিশাল গ্যাস ভাণ্ডার!

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেই ‘সমুদ্র মন্থনে’ বড় সাফল্য, আন্দামানে মিলল বিশাল গ্যাস ভাণ্ডার!

নয়াদিল্লি, ৬ জুন ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন তেল ও গ্যাসের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের জ্বালানি সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক সাফল্য এল। দেশের ‘সমুদ্র মন্থন মিশন’-এর অধীনে আন্দামান সাগরে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই বড়সড় আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের এই সময়ে এই আবিষ্কার ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা বহুলাংশে কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে অয়েল ইন্ডিয়ার জোড়া সাফল্য

সরকারি সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL) আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে, ৩৫৫ মিটার গভীর জলে অবস্থিত ‘বিজয়াপুরম-৩’ অনুসন্ধান কূপে এই গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘বিজয়াপুরম-২’ কূপেও প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজ মিলেছিল। চলতি অনুসন্ধান অভিযানে এখন পর্যন্ত খনন করা তিনটি কূপের মধ্যে দুটিতেই হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের বিপুল জ্বালানি সম্ভাবনার ইতিবাচক নির্দেশক।

অর্থনীতি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

এই আবিষ্কারের ফলে আগামী কয়েক বছরে আন্দামান অববাহিকা দেশের অন্যতম প্রধান হাইড্রোকার্বন উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এই ভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস শুধু গৃহস্থালির পিএনজি কিংবা যানবাহনের সিএনজি জোগানেই ভূমিকা রাখবে না, বরং সার তৈরির কাঁচামাল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি হাইড্রোজেনের উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত ‘সমুদ্র মন্থন মিশন’-এর মূল লক্ষ্যই ছিল গভীর সমুদ্রে লুকানো হাইড্রোকার্বন মজুদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, যা এই সফলতার মাধ্যমে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *