“নিজেকে পুষ্পা ভাবছেন?” দুর্নীতি ইস্যুতে অভিষেক-মমতার উদ্দেশে বিস্ফোরক মন্তব্য অগ্নিমিত্রা পালের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর শাসনব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। একদিকে যখন প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ঘোষণা করা হয়েছে এক ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্প। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই দ্বিমুখী পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে।
দুর্নীতিতে কড়া বার্তা ও সন্দেশখালিতে অস্ত্রের ভাণ্ডার
রাজ্যের বর্তমান সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকারে থেকে কেউ কোনও অন্যায় বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারের স্টাইলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গাড়ির হুডে চড়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ ভাবলেও বাংলার মানুষ ওনাদের বিদায়ের ডিজে বাজিয়ে দিয়েছে। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছে। সন্দেশখালির দাপুটে নেতা ও শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ রবিন দাস এবং তাঁর ভাই গোপাল দাসের বাড়ি সংলগ্ন পুকুর থেকে ১৭টি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্রকে দায়ী করা হচ্ছে, যার প্রভাবে আগামী দিনে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
১ লক্ষ কোটির রেল মেগা প্রজেক্ট ও শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন
আইন-শৃঙ্খলার কড়াকড়ির পাশাপাশি রাজ্যের যোগাযোগের মানচিত্রে এক নজিরবিহীন উন্নয়নের ঘোষণা এসেছে নবান্ন থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা করা হয়েছে। এর অধীনে রাজ্যে তৈরি হবে ১০২টি আধুনিক রেল স্টেশন। এছাড়া নতুন ও থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার এককভাবে বাংলার জন্য ১৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের ওপর। সরাসরি দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন শিলিগুড়ি পর্যন্ত ছুটবে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন। লখনউ, বারাণসী এবং পাটনা হয়ে এই ট্রেনটি মাত্র ৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাবে, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।