বাজেট অধিবেশনের আগেই কি মমতার হাত ছাড়ছেন আরও ৫ বিধায়ক, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

বাজেট অধিবেশনের আগেই কি মমতার হাত ছাড়ছেন আরও ৫ বিধায়ক, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙন এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। রাজ্য বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছাড়তে চলেছেন আরও পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলের জোর গুঞ্জন, আগামী ১৮ জুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনই এই পাঁচজন বিধায়ককে শাসক শিবিরের ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকে’ দেখা যেতে পারে। এই দলবদলের জেরে বিধানসভায় মমতার নেতৃত্বাধীন অংশের শক্তি আরও কমবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ৬৩-তে পৌঁছাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও পরিষদীয় কোন্দল

তৃণমূল কংগ্রেসের এই নজিরবিহীন ভাঙনের সূত্রপাত মূলত পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব ও সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৬ ও ১৯ মে কালীঘাটের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের নথি সম্প্রতি শোভনদেব চ্যাটার্জী প্রকাশ করার পর বিতর্ক তীব্র হয়। উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে, শোভনদেব চ্যাটার্জীকে পরিষদীয় দলনেতা করার চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। এর জেরেই গত বুধবার দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়িভাবে ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের’ নেতা এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক নির্বাচিত করে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে মাত্র ২২ জন বিধায়ক থাকলেও নতুন করে আরও পাঁচজনের দলত্যাগের সম্ভাবনা তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাংগঠনিক বিপর্যয় ও দূরগামী প্রভাব

এই ভাঙনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়, যেখানে ‘মমতার তৃণমূল কংগ্রেস’ কার্যত ধসে পড়েছে। জেলার ৯ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকে যোগ দিয়েছেন, যার ফলে জেলা স্তরে দলের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে পড়েছে। উপরন্তু, কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের পক্ষ থেকে তাঁর যোগদানের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট অধিবেশনের ঠিক মুখে এই সম্ভাব্য দলবদল মমতা ব্যানার্জির শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। যদি এই পাঁচ বিধায়ক সত্যি দল ছাড়েন, তবে বিধানসভার অন্দরে ভোটাভুটি বা কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির অংশটি চরম সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের দাবি অনুযায়ী, আসন্ন দিনগুলিতে দলের সংসদীয় নেতৃত্বে আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা যেতে পারে, যা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *