অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জোর চর্চা, ২০২৬ থেকেই কি আমূল বদলে যাচ্ছে সরকারি কর্মীদের মাইনে?

অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জোর চর্চা, ২০২৬ থেকেই কি আমূল বদলে যাচ্ছে সরকারি কর্মীদের মাইনে?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতি পাচ্ছে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কাজ। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিশন গঠন করার পর থেকেই দেশের ৫০ লক্ষেরও বেশি কর্মরত কর্মী এবং প্রায় ৭০ লক্ষ পেনশনভোগীর মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে আরও কিছুটা সময় লাগলেও, নতুন এই সংশোধিত বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীরা একটি মোটা অঙ্কের বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স পাবেন নিশ্চিতভাবেই।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও ন্যূনতম বেতনের নতুন সমীকরণ

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’, যা কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতনকে নতুন ম্যাট্রিক্সে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কর্মী সংগঠন এবং সরকারের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-র পক্ষ থেকে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানানো হয়েছে, যা মঞ্জুর হলে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, রেলের কারিগরি সংগঠনগুলো ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ টাকা করার দাবি তুলেছে। তবে আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার শেষ পর্যন্ত ২.২৮ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে একটি মধ্যপন্থা বেছে নিতে পারে। যদি সর্বনিম্ন ২.২৮ গুণকও ধরা হয়, তবে মূল বেতন ৩৪.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ন্যূনতম মাইনে দাঁড়াবে ৪১,০০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ২.৮৬ গুণক গৃহীত হলে তা ৫১,৪৮০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পেনশন বৃদ্ধি ও মহার্ঘ ভাতার বড় প্রভাব

বেতন পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সমানভাবে লাভবান হতে চলেছেন পেনশনভোগীরাও। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বা তার আগে অবসর নেওয়া প্রবীণ কর্মীদের ন্যূনতম পেনশন বর্তমানের ৯,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫০০ থেকে ২৫,৭৪০ টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতির বাজারে স্বস্তি দিতে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ স্বস্তি (DR) আরও ২ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ডিএ-কে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, তবুও নতুন এই বৃদ্ধির জেরে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোট মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ দাঁড়াবে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ। ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে সমস্ত প্রস্তাব সংগ্রহ করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক বৈঠক সেরে কমিশন এখন চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির পথে এগোচ্ছে, যার বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে সরকারি কোষাগার ও কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *