কুকুরে কামড়ানো গোরুর দুধ পান! বাঁকুড়ায় সংক্রমণ আতঙ্কে হাসপাতালে ভিড় ৫০ গ্রামবাসীর
বাঁকুড়ার খাতড়ার সুপুর গ্রামের এই ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের নিরিখে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কুকুরে কামড়ানো গোরুর দুধ খাওয়ার ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:
পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ:
- ঘটনার সূত্রপাত: সুপুর গ্রামে একটি গোরুকে কুকুর কামড়ায়, যা স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ী বেলা সাহুর গোরু ছিল। অভিযোগ, বিষয়টি গোপন রেখে ওই দুধ নিয়মিত বিক্রি করা হয়েছে।
- আতঙ্কের কারণ: বৃহস্পতিবার গোরুটির মৃত্যুর পর গ্রামবাসীরা জানতে পারেন সেটি জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। যেহেতু ওই দুধ দিয়ে গ্রামের সত্যনারায়ণ পুজোর সিন্নি তৈরি হয়েছিল এবং অনেকে তা খেয়েছেন, তাই সংক্রমণের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
- হাসপাতালের ভূমিকা: প্রায় ৫০ জন গ্রামবাসী (শিশু ও প্রসূতিসহ) খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ভিড় করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সতর্কতা:
সাধারণত, গোরুর মতো প্রাণীর জলাতঙ্ক হওয়ার পর যদি তার দুধ পান করা হয়, তবে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও, সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
১. পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): দুধ ভালো করে ফুটিয়ে খেলে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়, কারণ উচ্চ তাপে অধিকাংশ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। পুজোর সিন্নির জন্য দুধ সাধারণত ফোটানোই হয়, যা কিছুটা স্বস্তির খবর।
২. টিকাকরণ (Vaccination): যারা দুধ পান করেছেন বা আক্রান্ত গোরুর সংস্পর্শে এসেছেন, তারা সাবধানতাস্বরূপ চিকিৎসকের পরামর্শে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (Post-exposure prophylaxis) গ্রহণ করছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
৩. ব্যবসায়ীর দায়বদ্ধতা: অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বিষয়টি না জানার দাবি করলেও, গোরুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন থাকা ও অসুস্থ প্রাণীর দুধ বিক্রি না করা ব্যবসায়ীর নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
গ্রামবাসীদের জন্য পরামর্শ:
- আতঙ্কিত হবেন না: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেহেতু জানিয়েছেন যে সবাই সুস্থ আছেন, তাই অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: যারা দুধ পান করেছেন বা কোনোভাবে সংস্পর্শে এসেছেন, তারা নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপে থাকুন।
- খাদ্য নিরাপত্তা: গোরু বা কোনো গবাদি পশুর হঠাৎ মৃত্যু হলে তা স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পশুসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরকে জানানো উচিত যাতে রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে।