লুঙ্গি পরেই আদালতে তৃণমূল নেতা, গণরোষের মুখে ছুটলেন গারদের দিকে

ভোট পরবর্তী হিংসা ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার দোর্দণ্ড প্রতাপ তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বসিরহাটের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দেগঙ্গা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করার সময় আদালত চত্বরে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে লুঙ্গি উঁচিয়ে সোজা লক-আপের দিকে দৌড় লাগাতে বাধ্য হন এই শাসকদলীয় নেতা। একই দিনে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থেকেও সাইফুদ্দিন চৌধুরী ওরফে নাসপাতি নামে আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জনরোষ ও চাঞ্চল্যকর আদালত চত্বর
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, জমি দখল এবং সালিশি সভার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছিলেন আক্রান্তরা। শনিবার রবিউলকে আদালতে আনা হলে স্থানীয় মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গণধোলাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতেই রবিউল দৌড়ে গারদে আশ্রয় নেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষের তৃণমূল নেতা সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানি, মারধর ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে এবং বর্ধমান আদালতে পেশের সময় তাঁকেও জনতার ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা একাধিপত্য, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার এবং আর্থিক শোষণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই গণরোষের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে যাঁরা এতদিন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন, তাঁদের এই পরিণতি ক্ষমতার সমীকরণ বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই জোড়া গ্রেপ্তারের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।