১৮ সাংসদকে নিয়ে স্পিকারের দরবারে কাকলি, লোকসভাতেও এবার আড়াআড়ি ভাঙনের মুখে তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলানোর আগেই এবার লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় ‘নব তৃণমূল মঞ্চ’ গঠনের পর এবার দিল্লির বুকেও ঘাসফুল শিবিরে আড়াআড়ি ফাটল ধরার সম্ভাবনা তীব্র হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন তৃণমূলের ১৮ জন সাংসদ। এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাসাতের চার বারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
অভিষেককে দলনেতা মানতে নারাজ বিক্ষুব্ধরা
লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মূল কারণ দলের নেতৃত্ব নির্বাচন। বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কোনোভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন। এই মর্মে তাঁরা স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠিও দিতে চলেছেন বলে জানা গেছে। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। এবার সেই ক্ষোভই সংগঠিত রূপ নিতে চলেছে দিল্লিতে, যা লোকসভার অধিবেশনে তৃণমূলের রাশ অনেকটাই আলগা করে দিতে পারে।
সমাজমাধ্যমে কাকলির ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা
দলের অন্দরে যখন তীব্র ভাঙনের জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আজ শনিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করব, কোনও প্রাক্তন সাংসদ বা বিধায়ক যেন আমাকে নিয়ে মন্তব্য না করেন। নিজের বক্তব্য নিজেই তুলে ধরার ক্ষমতা আমার রয়েছে।” এর আগের দিনই তিনি দলের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে লিখেছিলেন, চার বার সাংসদ হিসেবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পর আজ যা ঘটছে, তা আসলে সরকারের নীতি ও শাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে রায়। কাকলির এই মন্তব্য সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই তোপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভাঙনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়া, একাধিক হেভিওয়েট নেতার জেলবন্দি দশা এবং বড় পদ থেকে নেতাদের সরে দাঁড়ানোর ঘটনা দলকে ছন্নছাড়া করে তুলেছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট করে দেয়। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে যেভাবে আলাদা মঞ্চ তৈরি হয়েছে, ঠিক একই মডেল এবার লোকসভাতেও বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এর প্রভাবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন কমবে, তেমনই সংসদের অন্দরেও দলটির একক শক্তি ও কর্তৃত্ব বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।