সিপিএম থেকে তৃণমূল, বিতর্কিত যাত্রার শেষে আবারও পথ হারালেন ঋতব্রত

ছাত্ররাজনীতির লড়াকু তরুণ থেকে ক্ষমতার অলিন্দের দাপুটে নেতা, ঋতব্রত ব্যানার্জির রাজনৈতিক জীবন বরাবরই ছিল চমক আর বিতর্কের সংমিশ্রণ। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উত্থানের পর ৩৪ বছর বয়সে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে তিনি নজর কেড়েছিলেন সবার। কিন্তু সেই উত্থান যেমন দ্রুত ছিল, পতনের গল্পটাও ছিল ততটাই নাটকীয়। ক্ষমতার শীর্ষে থাকাকালীন বিলাসিতা, দলবিরোধী মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৭ সালে বাম দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসময় অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিল।
দলবদল ও সই জালের অভিযোগ
বাম শিবির ছাড়ার পর তৃণমূলে আশ্রয় নেওয়া ঋতব্রত নতুন দলে যোগ দিয়েই মমতা ব্যানার্জিকে ‘প্রকৃত বামপন্থী’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু সেই মধুচন্দ্রিমার অবসান ঘটতে দেরি হয়নি। ২০২৪ সালে আবারও রাজ্যসভায় এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি মূলস্রোতে ফিরলেও, দলের অন্দরে তাঁর অবস্থান ক্রমশ নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সম্প্রতি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সবশেষে বিধানসভার স্পিকারের কাছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানানো সংক্রান্ত দলীয় চিঠিতে নিজের স্বাক্ষর জালের অভিযোগ তোলায় চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবির। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করার পর দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি সরাসরি তাঁর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
এই বহিষ্কারের পেছনে রাজনৈতিক আদর্শের অমিল নাকি অভ্যন্তরীণ কৌশলগত দ্বন্দ্ব কাজ করছে, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। সিপিএমের পর তৃণমূল—দুই ভিন্ন মেরুর দলেই বিতর্কিতভাবে বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, দল তাঁকে বড় সুযোগ দিলেও তিনি বারবার দলীয় নির্দেশ অমান্য করেছেন। বাম ও তৃণমূল উভয় শিবিরের রোষানলে পড়া ঋতব্রতর এই রাজনৈতিক অধ্যায় আপাতত এখানেই সমাপ্ত হলো, তবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তা নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।