কলকাতার বাজারে বসছে কাপড়ের ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন, প্লাস্টিক রুখতে কড়া পদক্ষেপ সরকারের!

কলকাতায় প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং বর্ষার মরশুমে জলযন্ত্রণা থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বর্ষার আগে শহরের নিকাশী ব্যবস্থার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতার কয়েকটি খাল পরিদর্শনের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে আগামী তিন মাসের মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে কাপড়ের ব্যাগ বিক্রির ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বাজারে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করলে নাগরিকদের কড়া জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
জলযন্ত্রণা ও পরিবেশ দূষণের মূল কারণ
কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যাগগুলি নালার মুখ ও ম্যানহোল জ্যাম করে দেয়, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জল নামতে দেরি হয়। এমনকি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের মোটরে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে গিয়ে পাম্প বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাই মাসেই রাজ্যে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তব চিত্রে মুদির দোকান, দুধের বুথ থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ফল ও সবজি বাজারে ১২০ মাইক্রনের কম পুরু নিষিদ্ধ প্লাস্টিক দেদার ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ পরিবেশবিদদের মতে, এই প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এবং এটি মাটিতে ও জলে মিশে ভয়ঙ্কর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ ও ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’ তৈরি করে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) সতর্ক করেছে।
বর্জ্য পৃথকীকরণে কড়া নজরদারি ও সম্ভাব্য প্রভাব
শহরের আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে উন্নত করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে বাড়ির পচনশীল (ভেজা) ও অপচনশীল (শুকনো) বর্জ্য আলাদা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম না মানলে পুরকর্মীরা সকালের দিকে সংশ্লিষ্ট বাড়ি থেকে আর আবর্জনা সংগ্রহ করবেন না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে এই নিয়ম চালু হলেও বিগত কয়েক মাসে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল এবং সব বর্জ্য একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছিল। এবার সেই শিথিলতা বন্ধ করতে কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে নতুন সরকার। এই কড়াকড়ির ফলে একদিকে যেমন শহরের জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, অন্যদিকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।