কলেজের গোপন ‘ফূর্তি ঘর’ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিলীপ ঘোষের, পুলিশকেও বড় হুঁশিয়ারি!

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এবং সুরুচি সংঘ ক্লাবে গোপন ‘বিলাসবহুল ঘরের’ সন্ধান মেলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন রুম ও ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে মদ, আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের এই ঘটনায় তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে পুলিশ প্রশাসনকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষাঙ্গনে বিলাসবহুল গোপন কক্ষ ও বিপুল অর্থ উদ্ধার
সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উইপোকায় খাওয়া দুই স্যুটকেস ভর্তি টাকা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সূত্রপাত হয়। এরপরই তল্লাশি চালিয়ে কলেজের ছাদে তৎকালীন তৃণমূল জমানার ‘টেরেস ফেসিলিটি’র আড়ালে তৈরি দুটি বিলাসবহুল এসি বেডরুমের খোঁজ মেলে। সেখান থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মদের বোতল, কনডোমের প্যাকেট এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন গভর্নিং বডির প্রভাবশালী সদস্য দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে এই কক্ষগুলি নিজেদের ব্যক্তিগত আমোদ-প্রমোদের জন্য ব্যবহার করতেন। অন্যদিকে, আলিপুরের সুরুচি সংঘ ক্লাবেও একই রকম একটি বিশেষ সুযোগ-সুবিধাযুক্ত ঘরের সন্ধান মিলেছে, যেখান থেকে ভাঙচুরের পর ভোটার তালিকা ও আধার কার্ডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক তরজা
এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। শাসকদলের ছত্রছায়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও পুলিশের একাংশের মধ্যে এখনও ‘প্রভুভক্তি’ কাজ করছে। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ টাকা উদ্ধার করলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে পুলিশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চাপ তৈরি করবে এবং রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।