রাজনীতিতে সৌরভ, ইউসুফ পাঠানকে মমতার বার্তা দেওয়ার জল্পনা ওড়ালেন ‘মহারাজ’

ক্রিকেট কিংবদন্তী ও ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীকে ঘিরে ছড়ানো রাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত বিতর্ক এক নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ হয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানের কাছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ সৌরভ গাঙ্গুলী নিজেই।
ভিত্তিহীন দাবির অবসান
ছড়িয়ে পড়া ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইউসুফ পাঠানকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে পরবর্তী উপনির্বাচনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সৌরভ গাঙ্গুলী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এমন কোনও বার্তা পাঠানোর অনুরোধ আসেনি। একই সঙ্গে তিনি ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে এই সংক্রান্ত কোনও ধরনের যোগাযোগ করেননি বলেও নিশ্চিত করেছেন। যেহেতু তিনি কোনো বার্তাই দেননি, তাই তা প্রত্যাখ্যান করার বা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে জানান ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।
মিডিয়ার ভূমিকায় ক্ষোভ ও প্রভাব
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌরভ গাঙ্গুলী দেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যাচাই না করে এমন সংবেদনশীল খবর প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে জনমানসে চরম ভুল ধারণা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমকে গুজব ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে খবর না লিখে, সর্বদা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো একজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে জড়িয়ে এমন খবর ছড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা গুজব কাজ করতে পারে। তবে সৌরভের এই দ্রুত ও স্পষ্ট জবাবের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হওয়া একটি বড়সড় জল্পনার অবসান ঘটল। পাশাপাশি তিনি আবারও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি কোনোদিনই কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চান না।