মেয়রহীন কলকাতা পুরসভা, বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রাজ্যের
June 6, 20267:21 pm

কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পরবর্তী পরিস্থিতি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:
পুরবোর্ড ভাঙার নোটিশ ও আইনি প্রক্রিয়া:
- রাজ্যের চিঠি: ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভাকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। ১৯৮০ সালের কলকাতা পুর আইনের ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী, রাজ্য জানতে চেয়েছে কেন কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না।
- সময়সীমা: এই চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য পুরসভাকে ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা: নবান্নের খবর অনুযায়ী, পুরবোর্ড ভেঙে দিলে পরবর্তী পুরনির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
আইনি জটিলতা ও বাস্তব চিত্র:
- মেয়রের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি মেয়রের ক্ষমতা: তৃণমূলের পক্ষ থেকে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের মাধ্যমে কাজ চালানোর কথা ভাবা হলেও, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়রের ইস্তফার পর ডেপুটি মেয়র বা মেয়রের পারিষদদের আর কোনো বৈধ ক্ষমতা থাকে না। মেয়র অসুস্থ থাকলে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলেও, মেয়রের পদত্যাগ মানেই পুরো পুরবোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়।
- পুর আইনের ১১৭(১) ধারা: এই ধারায় রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনো পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, বা ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তবে সরকার সেটিকে ভেঙে দিতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা সাধারণত সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য কার্যকর হতে পারে।
ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান:
ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার সময় স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পুরসভার সাধারণ কাজগুলো করতে পারছিলেন না এবং মেয়রের চেয়ারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চান না। তিনি এটিকে ‘ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
দলের পরবর্তী পদক্ষেপ:
- আগামীকাল তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
- দলের অন্দরে নতুন মেয়র হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে, যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে তৃণমূল।