১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান? বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো নিয়ে বড় উদ্যোগ বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর
June 6, 20267:22 pm

বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যা এবং ব্যারাকপুর স্টেশনের আধুনিকীকরণের দাবিতে বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে এবং লিখিত চিঠির মাধ্যমে তিনি যে দাবিগুলো তুলে ধরেছেন, তা ব্যারাকপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর মূল দাবি ও প্রস্তাবসমূহ:
- মেট্রো প্রকল্পের গতিদান: দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পটি নানা জটিলতায় থমকে ছিল। বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী জমি সংক্রান্ত জট কাটিয়ে এই প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদনের জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
- হকার পুনর্বাসন (মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি): কৌস্তভ বাগচীর চিঠির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসনের আর্জি। তিনি রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, হকার উচ্ছেদের বিষয়টি যেন মানবিক ও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
- স্টেশন আধুনিকীকরণ: ব্যারাকপুর স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছে:
- যাত্রী সুবিধা: ১ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য লিফট ও এসকেলেটর বসানো।
- পরিষেবা: নতুন টিকিট কাউন্টার, উন্নত শৌচালয় এবং পরিশ্রুত পানীয় জলের সুব্যবস্থা।
- ট্রেন চলাচল: প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজের দাবি।
- যানজট নিরসন: ১৪ নম্বর রেলগেটে আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে, যা ব্যারাকপুরের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যার সমাধান করবে।
সামগ্রিক প্রভাব:
এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যারাকপুর নয়, টিটাগড় ও সংলগ্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয়তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এই সমন্বিত প্রয়াস প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যেতে পারে।