কুনোর জঙ্গলে ফিরল ‘তৃণভূমির ভূত’! কয়েক দশক পর দেখা মিলল অতিবিরল ক্যারাকালের
June 6, 20267:23 pm

কুনো ন্যাশনাল পার্কে অতিবিরল ‘ক্যারাকাল’ বা ‘তৃণভূমির ভূত’-এর দেখা পাওয়া ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও মাইলফলক ঘটনা। কয়েক দশক পর এই অধরা প্রাণীর ফিরে আসা ভারতের বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের একটি বড় নিদর্শন।
ক্যারাকাল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও এই ঘটনার প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
ক্যারাকালের এই ফিরে আসার তাৎপর্য:
- ‘তৃণভূমির ভূত’ কেন বলা হয়: ক্যারাকাল অত্যন্ত চতুর এবং মানুষ বা জনবসতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। তাদের গায়ের রং শুকনো ঘাস বা পাথুরে পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, তাদের খুঁজে পাওয়া প্রায় আসাম্ভব। তাই এদের এই ছদ্মনামী উপাধি দেওয়া হয়েছে।
- বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এলাকায় ক্যারাকালের মতো উচ্চস্তরের শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি তখনই সম্ভব, যখন সেই এলাকায় ছোট শিকারি প্রাণী ও খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, কুনোর ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী।
- ‘প্রজেক্ট চিতা’-র প্রভাব: কুনো ন্যাশনাল পার্কে চিতা পুনর্বাসনের জন্য যে ব্যাপক বনোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ সুফল পেয়েছে ক্যারাকালের মতো বিপন্ন প্রজাতি। এলাকাটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে ওঠায় তারা আবার ফিরে আসছে।
- সাফল্যের বিস্তার: শুধু কুনো নয়, মধ্যপ্রদেশের ‘গান্ধী সাগর অভয়ারণ্য’-এও এদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের শুকনো ও পাথুরে বনাঞ্চলগুলোতে এই প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে।
ক্যারাকালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- শারীরিক গঠন: এদের কানের ওপরের লম্বা কালো লোমের গুচ্ছ বা ‘টাফট’ (Tufts) এদের প্রধান শনাক্তকরণ চিহ্ন।
- শিকারী দক্ষতা: এরা অসাধারণ ক্ষিপ্রগতির অধিকারী এবং লাফ দিয়ে উড়ন্ত পাখিও শিকার করতে পারে।
- সংকট: একসময় ভারতজুড়ে এদের দেখা মিললেও, আবাসন ধ্বংস এবং শিকারের কারণে এরা বর্তমানে ভারতের অন্যতম বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।
এই খবরটি পরিবেশপ্রেমী এবং বন্যপ্রাণী গবেষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আশা করা যায়, কুনো এবং গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যের মতো আরও সংরক্ষিত অঞ্চলে কঠোর নজরদারি ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্যারাকালের মতো এই বিরল প্রজাতিকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।