‘মিশন আকাশ’: ১ কোটির মাওবাদী নেতাকে ঘেরাও করতে বান্দোয়ানের জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান!
পুরুলিয়া: ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জের গভীর জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর জোরালো অভিযানের মুখে পড়ে সীমান্ত পেরিয়ে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে আশ্রয় নিয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’। সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা বঙ্গ ব্রিগেডের এই শীর্ষনেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে ১ কোটি টাকা। গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার থেকে বান্দোয়ানের সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গল ও গ্রামগুলিতে ‘মিশন আকাশ’ অভিযানে নেমেছে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স (CIF) এবং স্ট্র্যাকো বাহিনী।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মোদী কুচিয়া পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ নিজেও আসনজল ও ঠরকাদহ গ্রামের জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশকে নকশালমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। তার পরেই মোস্ট ওয়ান্টেড এই মাওবাদী নেতাকে ধরতে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়া এলাকা থেকে সাগর সিং (বীরেন), মদন মাহাতো (শঙ্কর) এবং মীরা পাহাড়িয়া (মিনা) নামের তিন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একে-৪৭, ইনসাস রাইফেল, পিস্তল এবং ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের জেরা করেই জানা যায়, যৌথ বাহিনীর তাড়া খেয়ে আকাশ এবং তাঁর আরও ৫ সঙ্গী—রামপ্রসাদ মান্ডি (শচিন), তাঁর স্ত্রী মিতা, জবা, মালতী ও সমীর সরেন এই অঞ্চলের জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ধৃত এই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মদন মাহাতোর বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ঐতিহাসিক শিলদা ইএফআর ক্যাম্প হামলা, কাঁকড়াঝোড় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ এবং সাংসদ সুনীল মাহাতো হত্যাকাণ্ডসহ মোট ৪১টি মামলা ঝুলছে, যার সঙ্গে ৬২ জন জওয়ানের মৃত্যুর যোগ রয়েছে। বীরেন ও মীরার বিরুদ্ধেও যথাক্রমে ৪৩টি ও ১৮টি নাশকতার মামলা রয়েছে।